Blog

Lifestyle

শতবর্ষে মহানায়ক: রূপোলি পর্দার অমর জা�

2nd Sep, 2026




শতবর্ষে মহানায়ক: রূপোলি পর্দার অমর জাদুকরকে স্মরণ করতে সেজে উঠছে তিলোত্তমা।


লেখা - শম্পা বটব্যাল 

ছবি - জাফর আলি খান


​১৯২৬ থেকে ২০২৬—কালের সীমানা পেরিয়ে একশো বছরে পা রাখলেন বাংলা চলচ্চিত্রের চিরকালের 'মহানায়ক' উত্তম কুমার। তাঁর জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর জুড়ে শহরের বুকে আয়োজিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ও বহুমুখী উৎসব। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার সিনেমার সেই স্বর্ণালী সময়কে পৌঁছে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস হিসেবে এই আয়োজন রূপ নিতে চলেছে এক ঐতিহাসিক উদযাপনে।


উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ৩ সেপ্টেম্বর সকালে আহিরীটোলা ও টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হবে। এরপর বিজলী সিনেমা হলের সামনে উন্মোচিত হবে উত্তম কুমারের বিশালাকার ২০ ফুটের একটি কাট-আউট। সন্ধ্যার দিকে একাডেমি অফ ফাইন আর্টস থেকে শুরু হয়ে বিড়লা তারামন্ডল হয়ে একতারা মুক্তমঞ্চ পর্যন্ত এক বিশাল শ্রদ্ধাঞ্জলি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় থাকছে এক বিশেষ প্রদর্শনী এবং নন্দন-৪ এ মহানায়ককে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দুর্লভ প্রকাশনার প্রদর্শনী।


দ্বিতীয় দিনে নিউটাউনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিলান্যাস হবে 'উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার'-এর। রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভারতীয় ডাক বিভাগের তরফে প্রকাশ করা হবে একটি বিশেষ খাম ও ডাকটিকিট। প্রবীণ শিল্পীদের সংবর্ধনা, প্রবীণ অভিনেতাদের স্মৃতিচারণামূলক আড্ডা এবং 'মহানায়ক-এ সুপারস্টার জার্নি' তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পর নন্দন ১ ও ২ এবং রাধা স্টুডিওতে শুরু হবে জমজমাট উত্তম কুমার চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবে বড় পর্দায় আবারও ফিরবে সত্যজিৎ রায়ের মাস্টারপিস 'নায়ক'।


​আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

পঞ্চমীর দিন, অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর শিশিরমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আলোচনা সভা। 'নায়িকাদের চোখে উত্তম কুমার' এবং 'অভিনেতা উত্তম কুমার'—এই দুই আকর্ষণীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন বিশিষ্টজনেরা। ৬ সেপ্টেম্বর উৎসবের সমাপনী দিনে রবীন্দ্রসদনে থাকছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক নিবেদন। সুরকার দেবজ্যোতি মিশ্র ও ইন্দ্রাদীপ দাসগুপ্তের পরিচালনায় পরিবেশিত হবে 'উত্তম কুমারের প্রতি সঙ্গীত শ্রদ্ধাঞ্জলি'।


​সারা শহর জুড়ে হোর্ডিং, বিশেষ প্রদর্শনী, এলইডি ভ্যান এবং ট্যাবলোর মাধ্যমে মহানায়কের জীবনের নানা দিক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী চার দিন ধরে তিলোত্তমা শুধু একজন মহানায়ককে স্মরণ করবে না, বরং বাঙালি মনে করিয়ে দেবে কেন তিনি আজও আমাদের রূপোলি পর্দার একমাত্র ও অদ্বিতীয় সম্রাট।