Blog

Lifestyle

শিলচরে ভূপেন হাজরিকা ব্যতিক্রম সম্মা

10th Sep, 2026

শিলচরে ভূপেন হাজরিকা ব্যতিক্রম সম্মাননা গ্রহণ করল দোহার

এরশাদ উদ্দিন, 

শিলচর, ৯ সেপ্টেম্বর: বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের ভারতরত্ন তথা সুধাকণ্ঠ নামে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী প্রয়াত ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিলচরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করল ব্যতিক্রম গ্রুপ। আসাম সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে এলো ড. ভূপেন হাজরিকার মানবতাবাদী দর্শন, আসামের বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং তাঁর সৃষ্টির সর্বজনীন আবেদন।

শিলচরের বঙ্গভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ড. ভূপেন হাজরিকা ব্যতিক্রম আন্তর্জাতিক সম্মাননা ২০২৬। বাংলার লোকসংগীতকে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় করে তোলা বিখ্যাত লোকগানের দল দোহার-এর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার সৌমেন ভারতীয়ার সঙ্গে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। সম্মাননা গ্রহণ করেন দোহারের শিল্পী রাজীব দাস, মৃগনাভি চট্টোপাধ্যায়, সত্যজিৎ সরকার এবং সুদীপ্ত চক্রবর্তী।

সম্মাননা গ্রহণের পর রাজীব দাস বলেন, তাঁদের কাছে এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আবেগের মুহূর্ত। বরাকের গান-বাজনাকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৯ সালে কলকাতায় দোহারের আত্মপ্রকাশ। দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলার লোকগান পৌঁছে দিয়েছে এই দল। বহু সম্মাননা পেলেও ব্যতিক্রমের এই সম্মাননা তাঁদের কাছে বিশেষ ও অনন্য।

দোহারের সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মৃগনাভি চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলার প্রাচীন লোকবাদ্যযন্ত্রকে কেন্দ্র করেই তাঁর দীর্ঘ পথচলা। এদিন ভাষাশহিদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বরাকের ১৯ মে-র ১১ ভাষা শহিদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

দোহারের শিল্পী শিলচরের বাসিন্দা সুদীপ্ত চক্রবর্তী ভূপেন হাজরিকার সঙ্গে তাঁর শৈশবের স্মৃতি ভাগ করে নেন। তিনি জানান, গুয়াহাটির শংকরদেব কলাক্ষেত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরাক থেকে যে সাংস্কৃতিক দল অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে গিয়েছিল, সেই দলে শিশু শিল্পী হিসেবে তিনিও ছিলেন। সেই সময় ভূপেন হাজরিকার স্নেহ ও আশীর্বাদ পাওয়ার স্মৃতি আজও তাঁর কাছে অমূল্য। এদিন অনুষ্ঠানে দুটি গান পরিবেশনের মাধ্যমে জন্মশতবর্ষে ভূপেন হাজরিকাকে শ্রদ্ধা জানায় দোহার। সংগীত পরিবেশন করেন মনীষা হাজরিকা, গীতাঞ্জলি কাকতি, জয়তী ভট্টাচার্য ও আশ্বাস আয়ুষ্মান। নৃত্য পরিবেশন করেন নিরন্তরের শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুধাকণ্ঠ ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকার ভ্রাতৃবধূ ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মনীষা হাজরিকা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সীমা শর্মা, গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী সোহেলী শীল সরকার, শিলচর সংগীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষনন্দিনী চক্রবর্তী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিবানী ধর, স্টাইলিয়ারের কর্ণধার জেরিনা লস্কর, সমাজকর্মী মিতালি সরকার, রাজ্য সরকারের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব হুসেন, কাছাড় ও হাইলাকান্দির কালচারাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার স্নেহাংশু শেখর রায়, গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী দেবন্তিনা সিনহা এবং সমাজকর্মী অঞ্জন পাল।

এদিকে, ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত ভূপেন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয় সোমবার শিলচর সংগীত বিদ্যালয়ে। অন্যদিকে, ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষের এই আয়োজনকে ঘিরে শিলচরের বঙ্গভবনে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগেরও ছিল বিশেষ কর্মসূচি। বিভাগের ছাত্রছাত্রী ও গবেষক শিল্পীরা সেখানে ভূপেন হাজরিকার প্রতিকৃতি আঁকেন। শিল্পের মাধ্যমে সুধাকণ্ঠের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা।